আন্তর্জাতিক পরিসরে আয়োজিত জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল হ্যাকাথন ইউজিং এআই ফর ডিজিটাল ট্রেড রেগুলেটরি এনালাইসিস’ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সেরা পাঁচ দলের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের ‘টিম জেড-এআই বিডি’। এই দলের এআই প্রকৌশলী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সানিউল বশির সাজ।
বুধবার (৫ আগস্ট) হ্যাকাথনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের ইউনাইটেড ন্যাশনস ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (ইউএনইএসসিএপি) এবং থাইল্যান্ডের কিং মংকাট’স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি লাডক্রাবাংয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈশ্বিক হ্যাকাথনের লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা বিশ্লেষণের জন্য কার্যকর ওপেন সোর্স সমাধান তৈরি করা। গবেষক, সফটওয়্যার প্রকৌশলী, এআই বিশেষজ্ঞ, আইনবিদ ও নীতিনির্ধারণ–সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রকল্প জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২০ জুলাই। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া প্রকল্প মূল্যায়ন করে ৩১ জুলাই ২০টি দলকে শর্টলিস্ট করা হয়। ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় শর্টলিস্ট হওয়া দলগুলোর অনলাইন লাইভ পিচ। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৫ আগস্ট গ্র্যান্ড ফাইনালের জন্য মাত্র পাঁচটি দল নির্বাচিত হয়। সেই তালিকায় জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের ‘টিম জেড-এআই বিডি’।
দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফুল-স্ট্যাক ডেভেলপার ও এআই প্রকৌশলী আবু নাসের মো. নাফি। অন্যান্য সদস্যরা হলেন লিগ্যাল রিভিউয়ার মো. ইনসাফুল রহমান তুষার, এআই প্রকৌশলী পুনম চৌধুরী, যবিপ্রবির শিক্ষার্থী ও এআই প্রকৌশলী মো. সানিউল বশির সাজ এবং ইউআই/ইউএক্স ডিজাইনার ফারহানা বর্ষা।
হ্যাকাথনে অংশ নেওয়া দলগুলোকে এমন একটি এআইভিত্তিক ওপেন-সোর্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হচ্ছে, যা বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ট্রেড রেগুলেশন, ক্রস-বর্ডার ডেটা ফ্লো, ডেটা প্রোটেকশন ও প্রাইভেসি-সংক্রান্ত নীতিমালা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। পাশাপাশি রিজিওনাল ডিজিটাল ট্রেড ইন্টিগ্রেশন ইনডেক্স (RDTII)-এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনের সক্ষমতাও থাকতে হবে। এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ প্রতিটি দলকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য অফলাইন গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশগ্রহণের জন্য ভ্রমণ সহায়তা দেওয়া হবে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলের সামনে দলগুলো তাদের পূর্ণাঙ্গ এআইভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করবে। আগামী অক্টোবর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য ওই ফাইনাল থেকেই বিজয়ী দল নির্বাচন করা হবে।
যবিপ্রবির সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সানিউল বশির সাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সফটওয়্যার গবেষণায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। এ প্রতিযোগিতায় তার গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যবিপ্রবির সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নওশিন আমিন শেখ।
সানিউল বশির সাজ জানান, আন্তর্জাতিক এই হ্যাকাথনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমি বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডি আরইএন) এর প্রতিনিধি হিসেবে ‘টিম জেড-এআই’ দলের সঙ্গে কাজ করে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমাদের এই সাফল্যের পেছনে পুরো দলের নিরলস পরিশ্রম, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিশেষ করে আমাদের টিম লিডার আবু নাসের মোহাম্মদ নাফি, ইনোভেশন ম্যানেজার, বিডিআরইএন এর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে আমি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নৌওশিন আমিন শেখ এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তার সবসময় দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা আমার গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, ‘গ্লোবাল হ্যাকাথন ইউজিং এআই ফর ডিজিটাল ট্রেড রেগুলেটরি এনালাইসিস’ জাতিসংঘের একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। এ আয়োজনের অংশীদার হিসেবে ইউএনইএসসিএপির পাশাপাশি রয়েছে ইউএনসিটিএডি, ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও), ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, সিএমকেএল ইউনিভার্সিটি, সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি (এসএমইউ), ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট (ইইউআই) এবং বিশ্বের আরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়।
আরটিভি/এমএম


